COMPARE AND GO FOR THE BEST PRICE...

যেভাবে মোবাইল সেবা মনিটরিং করবে বিটিআরসি

বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরদের নানা সেবা নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল সেবার মান পর্যবেক্ষণ ও অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি।

এজন্য কানাডাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যন্ত্রপাতি ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ৭৭.৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব সরঞ্জাম কিনছে বাংলাদেশ।

এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটি ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করবে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ”নতুন টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সিস্টেম চালুর ফলে টেলিকম খাতের দুর্বলতা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।”

কী সুবিধা দেবে এই প্রযুক্তি
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, এই অবকাঠামো স্থাপনের ফলে বাংলাদেশে মোবাইল সেবার মান তদারকি করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ”মোবাইল অপারেটরদের সেবার গুণগত মান নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আছে, গুণগত মান রক্ষার যেসব বিষয় আছে, আমরা সেগুলো মনিটরিং করে আসছি। কিন্তু প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এই কাজটি পুরোপুরি সম্পাদন করা অসম্ভব। সেজন্য আমরা প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি।”

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “প্রত্যেকটা মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আমাদের ডাটাবেজ কানেক্টেড থাকবে। তাদের যে সার্ভিসগুলো আছে, সেগুলোও মনিটর করার জন্য আমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে আমরা তাদের ভয়েস কল, এসএমএস থেকে আরম্ভ করে সবকিছুই এখান থেকে মনিটরিং করতে পারবো।”

“সেই সঙ্গে কোয়ালিটিও দেখতে পারবো। ইন্টারনেট স্পিড থেকে শুরু করে নেটওয়ার্ক-সব কিছুই দেখতে পারবো,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “সেসব তথ্য তাদের কাছ থেকে আমরা এখন ম্যানুয়ালি চেয়ে নেই, সেই সব তথ্য অটোমেটিক্যালি এখান থেকে পেয়ে যাবো। ফলে রাজস্ব ভাগাভাগিসহ যেসব তথ্য তারা আমাদের সঙ্গে আদানপ্রদান করে, সেসব এই সিস্টেম দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাবো। সবমিলিয়ে এটা মনিটরিং করার জন্য একটা ভালো টুলস হিসাবে কাজ করবে।”

বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিং-এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে। সেই সঙ্গে গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

বিশেষ করে শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল, দ্বীপ, হাওর-বাঁওর, উপকূলীয় অঞ্চল ও দুর্গম এলাকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষনিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

মোবাইল অপারেটররা বাস্তবে যেসব ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর ফলে গ্রাহক কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিনা, এসব প্যাকেজ বিটিআরসির অনুমোদিত কিনা, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।

সেই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগের নিষ্পত্তি সহজে করা যাবে।

গ্রাহক সেবার মান নিয়ে কী করছে বিটিআরসি
বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলছেন, “যখন তাদের (মোবাইল অপারেটরদের) কোন সমস্যা পাওয়া যাবে, তখন আমরা তাদের বলতে পারবো যে, আপনাদের এখানে ক্রুটি আছে, এখানে কোয়ালিটি খারাপ আছে, আপনারা ইমিডিয়েট অ্যাকশনে যান।”

”এখন সারা দেশ থেকেই অনেকে অনেকভাবে নানা অভিযোগ করেন। সেগুলো আমরা আসলে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারি না। কিন্তু এটা দিয়ে আমরা বুঝতে পারবো এবং দেখতে পারবো। এমনকি কমপ্লেইন না করলেও আমরা বুঝতে পারবো,” তিনি বলছেন।

মি. সিকদার জানান, মোবাইলের সেবা নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো সমাধানে সম্প্রতি দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কী বলছে মোবাইল অপারেটররা
মোবাইল সেবার মান তদারকির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

সংস্থাটির মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এস এম ফরহাদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “মোবাইল অপারেটররা বিটিআরসি বা সরকারের এই মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনার উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। আমরা মনে করি যে এর ফলে সরকার, গ্রাহক কিংবা জনমনে মোবাইল খাত নিয়ে যে নানা ধরনের মিস পারসেপশন আছে সেসব দূর হবে। যে কোনো খাতকে যত বেশি স্বচ্ছতার সংগে মনিটর করা হবে তত উৎকৃষ্ট মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় মোবাইল সেবার মান ও ট্যারিফ নিয়ে গ্রাহকদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠছে। এসব সমাধানে কমিটিও গঠন করেছে বিটিআরসি।

কিন্তু মোবাইল অপারেটররা কেন গ্রাহক সেবার মান পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারছেন না?

ট্যারিফ সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান কেবল ডট কো ডট ইউকের উদ্ধৃতি দিয়ে মি. ফরহাদ দাবি করেছেন যে সবচেয়ে কম ট্যারিফ থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

”বিটিআরসি সম্প্রতি যে কমিটি করেছে তাকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মান যেভাবে খারাপ বলা হয় তেমনটা মোটেও নয় । তবে এই গতি আরও ভালো করার অবকাশ আছে।”

এস এম ফরহাদ বলছেন, ”আমাদের এখানে কম এলাকায় বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাই অনেক বেশি তরঙ্গ দরকার, যেটা অপারেটরদের কাছে নেই। সরকার তরঙ্গ বরাদ্দ দিলেই অপারেটররা তা ক্রয় করে। তাছাড়া তরঙ্গের দাম আমাদের দেশেই তুলনামূলকভাবে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। করও সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেবার দাম আবার সবচেয়ে কম।”

”পাশাপাশি আরও অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে—যেমন এখানে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি মধ্যসত্ত্বভোগী প্রতিষ্ঠান আছে। অপারেটররা নিজেরা ফাইবার লে করতে পারে না, টাওয়ার বসাতে পারে না, আরেক কোম্পানির কাছে বাল্কে ইন্টারনেট কিনতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন নির্দেশনা অপারেটরদের উন্নত সেবা প্রদানের জন্য বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয় । আমরা আশা করি সরকার এসব সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসবে,” বলছেন মি. ফরহাদ।

খবর- বিবিসি বাংলা।

Leave a Comment